গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও আড়াই বছরেও ধরা পড়েননি মোতালেব

এফএনএস (মোঃ আব্দুল বাতেন; গোদাগাড়ী, রাজশাহী) :
| আপডেট: ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম | প্রকাশ: ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও আড়াই বছরেও ধরা পড়েননি মোতালেব

আদালতের দেওয়া এক বছরের কারাদণ্ড ও সাড়ে ৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের পর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোতালেব হোসেনকে আড়াই বছরেও গ্রেপ্তার করা হয়নি।

বরং পরোয়ানা জারির পরও তিনি পুলিশের একাধিক থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এক কর্মস্থল থেকে আরেক কর্মস্থলে বদলি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানাও বিভিন্ন থানায় ঘুরেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মোতালেব হোসেনের বিপি নম্বর ৮২০২০৭৭৯৪৩। সর্বশেষ তিনি হবিগঞ্জের বাহুবল থানায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সমসপাড়া এলাকায়। তাঁর বাবার নাম সাহরুল ইসলাম।

আদালত সূত্র ও মামলার বাদীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর যুগ্ম দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. আফাজ উদ্দিন একটি চেক জালিয়াতির মামলায় মোতালেব হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।মামলাটির বাদী রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার নওপাড়া গ্রামের আয়নাল হক। তিনি একটি বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

তাঁর অভিযোগ, রাজশাহী মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট ও মতিহার থানায় দায়িত্ব পালনকালে মোতালেব জমি কেনাবেচার ব্যবসায় জড়িত হন। ওই ব্যবসার জন্য পরিচিতজনদের কাছ থেকে তিনি টাকা ধার নিতেন।আয়নাল হকের ভাষ্য, তাঁর কাছ থেকেও মোতালেব ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে এর বিপরীতে একটি চেক দেন। ২০২২ সালের ১৮ মে চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর হিসাবটিতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকার বিষয়টি জানা যায়। পরে পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সাড়া না পেয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।বাদীর দাবি, মামলার রায় ঘোষণার সময় মোতালেব হোসেন রাজধানীর গুলশান থানায় কর্মরত ছিলেন। এরপর তাঁকে নরসিংদী, গোপালগঞ্জ ও সর্বশেষ হবিগঞ্জে বদলি করা হয়। এর মধ্যে আদালত থেকে তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে পাঠানো হলেও পরোয়ানা পৌঁছানোর আগেই তিনি অন্যত্র বদলি হয়ে যান।

ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরোয়ানা কার্যকর না করেই তা রাজশাহীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরে তাঁর নতুন কর্মস্থলে আবারও পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে বলে বাদীর অভিযোগ।এদিকে সম্প্রতি বাহুবল থানায় কর্মরত অবস্থায় মোতালেবের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির কাছে তিন হাজার টাকা দাবির অভিযোগ ওঠে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। তবে সেখানে গিয়েও তিনি দায়িত্বে যোগ দেননি বলে পুলিশ জানিয়েছে। হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের রিজার্ভ অফিসের এসআই আবদুল মজিদ জানান, মোতালেব হোসেন প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার বিষয়টিও পুলিশ অবগত।

অন্যদিকে গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন জানান, মোতালেব হোসেন ওই থানায় দায়িত্ব পালন করার সময় তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানা থানায় পৌঁছেছিল। তবে ততক্ষণে তিনি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান।

তাঁর ভাষ্য, কোনো থানা এলাকায় পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তির অবস্থান না থাকলে বিষয়টি ‘অন্যান্যভাবে নিষ্পত্তি’ হিসেবে আদালতকে অবহিত করার নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।এ অবস্থায় দণ্ডপ্রাপ্ত এএসআইকে গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন মামলার বাদী আয়নাল হক। সম্প্রতি এ দাবিতে তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এএইচএম শাহাদাত হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এএসআই মোতালেব হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে