সৈয়দপুরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি হচ্ছে আইসক্রিম

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) :
| আপডেট: ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম | প্রকাশ: ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
সৈয়দপুরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি হচ্ছে আইসক্রিম

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে আইসক্রিম তৈরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ,শহরের মুন্সিপাড়া,বাঁশবাড়ী,মিস্ত্রীপাড়া,চামড়া গুদাম, গোলাহাট, সাহেবপাড়াসহ গোয়ালপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব আইসক্রিম তৈরির কারখানা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব আইসক্রিম শিশুদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, এসব কারখানায় আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের রং, বরফ, স্যাকারিনসহ নানা উপকরণ। উৎপাদনকাজে ব্যবহৃত পানি ও কারখানার আশপাশের পরিবেশও নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন বলে স্থানীয়দের দাবি। কোথাও কোথাও ময়লা-আবর্জনার মধ্যেই আইসক্রিম তৈরির কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,শিশুদের আকৃষ্ট করতে নানা রং ও স্বাদের আইসক্রিম তৈরি করে পাড়া-মহল্লার দোকান ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া,ব্যবহৃত কাঁচামাল ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে যথাযথ নজরদারি না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে,বেশ কিছু কারখানার পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা ছাড়পত্র নেই। ফলে অনুমোদনহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ,নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি আইসক্রিম খেয়ে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে এসব আইসক্রিমের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিও বাড়ছে। এলাকাবাসী দ্রুত এসব কারখানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত অভিযান, উৎপাদিত আইসক্রিমের নমুনা পরীক্ষা এবং অনুমোদন ও খাদ্যমান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি জোরদারের দাবি উঠেছে। তাদের প্রশ্ন শিশুদের খাদ্য হিসেবে বিক্রি হওয়া আইসক্রিম যদি সত্যিই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হয়,তাহলে এসব কারখানা এতদিন ধরে কীভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করে অনুমোদনহীন ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে