মাদারগঞ্জে অতিরিক্ত মুল্যের সার বিক্রির অভিযোগ

এফএনএস (এস এম এ হালিম দুলাল; জামালপুর) : | প্রকাশ: ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
মাদারগঞ্জে অতিরিক্ত মুল্যের সার বিক্রির অভিযোগ

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার ফুলজুর চৌরাস্তা মোড়ে তারা ব্যাপারী নামে এক জনৈক্য ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ইউরিয়া ও বি এডিসি সার বেশিদামে বিক্রির অভিযোগ করছেন এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকগন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় জনৈক্য তারা ব্যাপারী তিনি কোন সরকার অনুমোদিত বিএডিসি কিংবা বিসিআইসি ডিলার না হয়েও তিনি নারায়ণগঞ্জ অথবা ঘোড়াশাল হইতে ট্রাক ভর্তি ইউরিয়া সারসহ বিভিন্ন পদের সার নিয়ে আসছেন। ঐসব সার তিনি বেশির ভাগ বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলাসহ এলাকার কৃষকদের কাছে ইচ্ছামত বেশি দামে  বিক্রি করে যাচ্ছেন যেন দেখার কেউ নেই।

১৭ আগস্ট সরে জমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তারা বেপারীর দোকানে ইউরিয়া (গুড়াশাল) সার প্রতি বস্তা ১৩শ ৫০ টাকার স্থলে বিক্রি করছেন ১ হাজার ৫০০ টাকায়। বিএডিসি (ডিএপি) সার ১ হাজার ৫০ টাকার স্থলে বিক্রি করছেন  ১৪’শ ৫০ টাকায় এবং টিএসপি ১৩৫০ টাকার স্থলে বিক্রি করছেন ১ হাজার ৮০০ টাকায়। এতে করে সাধারণ কৃষকরা বেশিদামে সার ক্রয় করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

অপরদিকে তারা ব্যাপারীর কাছ থেকে অন্যান্য খুচরা ব্যবসায়ী বেশী দামে ইউরিয়া সার ক্রয় করে তারা ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে আসছেন। এসব সার কেনার সময় কৃষকরা তারা ব্যাপারীর দোকানের রশিদ চাইলে তাদের কাছে সার বিক্রি করছেন না বলে জানান সাধারণ ভুক্তভোগী কৃষক। এভাবে বাড়তি দামে সার বিক্রি করে যাচ্ছেন ফুলজুর চৌরাস্তা মোড়ের খুচরা ব্যবসায়ী তারা ব্যাপারী।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ,সরকারি ভাবে স্থানীয় প্রশাসনের সঠিক তদারকি না করার কারণে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা কৃষকের ওপর এভাবে যেন মরার উপর খাড়াঘা চেপে বসেছেন বলে মনে করছেন এলাকার কৃষক। ফুলজুর গ্রামের কৃষক রাজু মিয়া এবং সজিব মিয়া ও একাধিক কৃষক জানান, তাদেরকে  দরে সার কিনতে হচ্ছে। আর বস্তায় দিতে মুহচ্ছে কমপক্ষে ১৫০০ টাকা। এ ছাড়া দোকান থেকে কোনো ক্যাশমেমো দেওয়া হয় না।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি অফিস সুত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারের কোনো সংকট নেই। কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী,মাদারগঞ্জ  উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বিসিআইসির সার  ডিলার রয়েছে মোট ৮জন এবং বিএডিসি ডিলার রয়েছেন ৬ জন। সরকারি অনুমোদিত সার ডিলার মোট ২৬জন থাকা সত্ত্বেও কিভাবে একজন অবৈধ ব্যবসায়ী সার নিয়ে আসছেন এ নিয়েই এলাকা ডিলারদের মাঝে রয়েছে চরম হতাশা।

কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায় সরকারি ভত্তুকি মুল্যে কৃষকের কাছে ইউরিয়া সার প্রতি কেজি ২৭ টাকা দরে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ১৩শ ৫০ টাকা, বিএডিসি এমওপি ২১ টাকা কেজি দরে প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা এবং টিএসপি ১৩শ ৫০ টাকা খুচরা মুল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করার সরকারি নির্দ্দেশনা রয়েছে। এছাড়া খুচরা ব্যবসায়ীরা ডিলারদের কাছ থেকে আরো কম দামে ক্রয় করে সরকারি নির্ধারিত মুল্যে বিক্রয় করা কথা রয়েছে। কিন্তু সরকারি ভতুর্কি মুল্যে এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করে ফুলজুর চৌরাস্তা মোড়ের  অসাধু ব্যবসায়ী তারা ব্যাপারী সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন অপকর্ম করে আঙ্গুল ফলে কলা গাছ বনে যাচ্ছেন, যেন দেখা কেউ নেই।

তারা বেপারী কোন সরকারি অনুমোদিত সার ডিলার না হয়েও কি’ভাবে ট্রাকে-ট্রাকে সার নিয়ে আসছেন এ ব্যাপারে তারা বেপারী সার বিক্রেতার কাছে জানতে চাইলে তিনি এর কোন সদোত্তর দিতে পারেননি। তরে বেশী দামে সার বিক্রি করছেন কেন? এমন প্রশ্নের জবারে তিনি বলেন আমি কিশোরগঞ্জ হাওয়র অঞ্চলের ডিলারদের কাছ থেকে বেশী দামে কিনে ট্রাক ভাড়া দিয়ে এনেছি তাই আমি বেশী দামে সার বিক্রি করছি।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, সারের কোথাও কোনো সংকট নেই। কেউ যদি বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃষকের অভিযোগ পেলে ডিলার কিংবা খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

কৃষক হয়রানী বন্ধের উপায়- বৈধ সার ব্যবসায়ী সুত্রে জানাগেছে, যেসব অঞ্চলে বর্ষার-শরৎ মৌসুমে ৬মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে এমনকি ,রোপা-আমন,ভোটত্মা,তরিতরকারি ফসল চাষাবাদ তেমন হয় না, বিশেষ করে হাওয়র অঞ্চলের কৃষকদের বর্ষা-শরৎ কালে তেমন কোন সারের চাহিদা থাকে না অথচ ঐসব এলাকার ডিলাররা প্রয়োজনের তোলনায় অধিক সার বরাদ্ধ পায়। যে কারণে তারা তাদের বরাদ্ধকৃত সার উত্তোলন করে ট্রাকে-ট্রাকে বিক্রি করে থাকেন। অপরদিকে জামালপুর জেলায় যেহেতু রোপা-আমন,ভোটত্মা, আঁখ,টাল তরকারি শাকসবজি প্রচুর পরিমান চাষাবাদ হয়ে থাকে। তাই বর্ষা ও শরৎ কালে কৃষকদের সারের চাহিদা অত্যাধিক বেশী থাকে।সে তুলনায় সার বরাদ্ধ অপ্রতুল্য ঘার্তি থাকার কারণে অবৈধ পথে সার আমদানীর ক্ষেত্রে এ জেলায় স্থানীয় প্রশাসন সারের চাহিদা পুরণের জন্য যেনে শুনে দেখেও না দেখার ভান করে নিরবতা পালন করে থাকেন। এ সুযোগে অসাধু মুনাফা লোভী,অবৈধ কালোবাজারী সার পাচারকারি ব্যবসায়ীরা ভিন্নপন্থায় সার আমদানী করে উচ্চ মুল্যে সার বিক্রয় করে কৃষকদের পকেট কেটে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাচ্ছেন। তাই খাদ্য উৎপাদনকারি অসহায় কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি কৃষকদের দাবী, যেসব অঞ্চলে বর্ষার-শরৎ মৌসুমে ৬মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে এমনকি ,রোপা-আমন,ভোটত্মা,তরিতরকারি চাষাবাদ তেমন হয় না, এসব হাওয়র অঞ্চলে মনিটরিং করে সার চাহিদা মত রেখে অবশিষ্ট সার চাসাবাদ যোগ্য এমনকি খাদ্য শস্যে উৎপাদনকারি এলাকাগুলোতে বরাদ্ধ বৃদ্ধি করা হলে কৃষকরা যেমন সঠিক সময় ন্যার্য্যমুলে সার পবে,ঠিক তেমনি অধিক মুনাফা লোভী,কালবাজারী,সার পাচারকারিদের দৌড়াত্ত বন্ধ হবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।  

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে