চাটমোহর রেলবাজার হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

এফএনএস (হেলালুর রহমান জুয়েল; চাটমোহর, পাবনা) : | প্রকাশ: ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
চাটমোহর রেলবাজার হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

পাবনার চাটমোহর উপজেলার অন্যতম বৃহৎ হাট অমৃতকুন্ডা (রেলবাজার)। প্রতি বছর এই হাট ইজারা হয় কোটি টাকার বেশি। অথচ হাটের উন্নয়নে কোন পদক্ষেপ নেই। ইজারাদারদের দৌরাত্ম আর হাটের অব্যবস্থানায় অতিষ্ঠ ক্রেতা-বিক্রেতারা। হাটের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো এখন চলাচলের অযোগ্য। পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। কাদা পানির মধ্যে হাটুরেদের চলাচল করতে হচ্ছে। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে ইজারাদার কর্তৃক হাটের বিভিন্ন অংশ সাব ইজারা প্রদান করা হয়েছে। সাব ইজারাদার ও তাদের লোকজন জোর জবরদস্তি অতিরিক্ত টোল আদায় করছে বলে অভিযোগ। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই খাজনা বা টোল আদায় করা হয়। এনিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

অমৃতকুন্ডা হাটে গিয়ে দেখা যায়,রসুন ও পে*য়াজ হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই খাজনা আদায় করা হচ্ছে। ইজারাদারের নিয়োগকৃত লোক জোর জবরদস্তি এই কাজ করছে। হাটের অন্যান্য অংশও একই অবস্থা। এদিকে চাটমোহর-পাবনা সড়কে ইজারাদার পাটের হাট বসিয়ে টোল আদায় করছেন। সড়কে হাট বসানোর কারণে সৃুষ্টি হচ্ছে যানজটের। চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যানবাহন চালক,যাত্রী ও পথচারীরা। এই হাটে ইজারাদার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বিক্রির বাজার বসিয়ে মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ এই জাল হাটে বিক্রি হওয়ার কথা নয়। গরু ও ছাগল হাটে গিয়ে দেখা গেল,পশুর আমদানি কম। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই হাসিল (খাজা) আদায় করা হয় বলে জানালেন একজন গরুর ব্যাপারী। এখানে নিয়ম কানুনের কোন বালাই নেই।

জোরপূর্বক টোল আদায় করা হলেও হাটের ভেতরের রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দু’চারটি রাস্তা ব্যবহার না করায় সেখানে আগাছার জন্ম হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। কাদা পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে রাস্তাগুলো। ফলে হাটুরেদের চলাচলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

হাটের ব্যবসায়ীরা জানালেন,হাটের দুরাবস্থার কথা। বললেন,বৃষ্টি হওয়া মাত্র গোটা হাটে পানি জমে যায়। কাদা পানিতে একাকার হাটে চলাই দুরুহ। এ নিয়ে কারো কোন উদ্যোগ নেই। অথচ ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে ইজারাদার জোরপূর্বক টোল আদায় করছেন প্রতি হাটে। 

হাটের ইজারাদার মহরম মল্লিক বললেন,‘ভাই হাটের করুন অবস্থা। বারবার ইউএনও স্যারকে বলছি। কিন্তু ব্যবস্থা এখনও নেওয়া হয়নি। হাটের ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম দূর্ভোগে পড়েন। হাটের উন্নয়ন জরুরীভিত্তিতে দরকার।” ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে তিনি জানান,সবার কাছ থেকে নেওয়া হয়না। খরচ আছো তো,রসুন হাট থেকে কিছু নেওয়া হয়। 

হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতারা অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ করাসহ হাটের উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে