শেরপুরে ক্ষতিকারক কেমিক্যালে আইসক্রিম তৈরির অভিযোগ : লাখ টাকা অর্থদন্ড

এফএনএস (সৌরভ অধিকারী শুভ; শেরপুর, বগুড়া) : | প্রকাশ: ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
শেরপুরে ক্ষতিকারক কেমিক্যালে আইসক্রিম তৈরির অভিযোগ : লাখ টাকা অর্থদন্ড

বগুড়ার শেরপুরে শিশুখাদ্যে মারাত্মক ক্ষতিকর নিষিদ্ধ কেমিক্যাল ও মানবদেহের জন্য বিপজ্জনক ঘনচিনি ব্যবহারের দায়ে ‘প্রিন্স সুপার আইসক্রিম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে যৌথ অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। 

অভিযানে কারখানার মালিককে ১ (এক) লাখ টাকা জরিমানা(অর্থদন্ড) করার পাশাপাশি কারখানায় সংরক্ষণ করা বিপুল পরিমাণ ভেজাল আইসক্রিম ও ক্ষতিকর কাঁচামাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর বারোটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত শেরপুর উপজেলার বাগড়া কলোনি, কুসুম্বি এলাকায় অবস্থিত ওই অনিবন্ধিত কারখানায় জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বগুড়ার যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান চালানো হয়।

অভিযানসূত্রে জানা যায়, অনিবন্ধিত অবস্থায় কারখানাটিতে সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে। শিশুদের লোভনীয় খাবার “আইসক্রিম” প্রস্তুত করতে ওই খাদ্যে ব্যবহার নিষিদ্ধ সোডিয়াম সাইক্লামেট (ঘনচিনি) এবং বিষাক্ত রাসায়নিক রং মেশানো হচ্ছিল। নোংরা পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছিল আইসক্রিমের কাপ। ফ্রিজ তল্লাশি করে এসব ভেজাল উপাদানে তৈরি বিপুল পরিমাণ আইসক্রিম মজুদ পাওয়া যায়।


অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং কারখানার স্বত্বাধিকারী শিহাব উদ্দিন প্রিন্স (৪৮) নিজ মুখে তা স্বীকার করায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহরাব হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ এর ৩৯ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ১লাখ টাকা জরিমানা করেন। এবং তাৎক্ষণিক অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। পরবর্তীতে জনসাধারণের উপস্থিতিতে ফ্রিজে থাকা সব বিষাক্ত আইসক্রিম স্পটেই ধ্বংস করা হয়।

অভিযান শেরপুর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক তাহমিনা আক্তার, প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফ এবং সার্বিক নিরাপত্তায় জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল নিয়োজিত ছিল। অভিযান শেষে কারখানা কর্তৃপক্ষকে আইনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাদ্য তৈরির কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বগুড়া জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার রাসেল জানান, শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে এ ধরনের ক্ষতিকর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের এই কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে