ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিভিন্ন হাট বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে আঁতশ বাজি। প্রতিনিয়ত গভীর রাতে এসব আঁতশ বাজির গর্জনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন রুগীরা। বেশীরভাগ হার্টের রুগী আঁতশ বাজির গর্জনে রাতে ঘুমোতে পারছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে চলেছেন। বিকট শব্দ দুষনের মধ্য দিয়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে রাত কাটাচ্ছেন তারা। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনরাত আঁতশ বাজির রমরমা বাণিজ্য চলছে। তবুও নেই কারো মাথা ব্যাথা।
তবে বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন জানান, “ আমি নিজে দেখেছি হাট বাজারে আঁতশ বাজির অবাধ ব্যাবসা হচ্ছে। যে কোনো সময় আমি বাজারে গিয়ে সব আঁতশ বাজি উঠিয়ে নিয়ে আসবো”।
একই দিন উপজেলা সদরের বি.এস. ডাঙ্গী গ্রামের এক হার্টের রুগী আলমাস শেখ (৫৮) জানান, “গত ক’দিন ধরে বখাটে যুবকরা গভীর রাতে এতো বিকট শব্দে আঁতশ বাজি ফুটাচ্ছে যে, মনে হয় ঘরের চালার উপর বজ্রপাত হচ্ছে এবং মাটি সহ কেপেঁ উঠছে। এতে শুধু রুগীরা নয়, সাধারন মানুষ সহ পরিবারের ঘুমন্ত শিশুরাও চিৎকার করে জেগে উঠছে”।
বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও খোজ খবর নিয়ে জানা যায়, এ বছর ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চরভদ্রাসন সদর বাজার, চরহাজীগঞ্জ বাজার, মৌলভীরচর বাজার, আঃ হাই খান হাট, আমিন খানের হাট, মাসুদ খানের হাট ও জাকেরের সুরা বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে হরেক রকমের আঁতশ বাজি। এসব হাট বাজারে প্রতি পিচ লম্বাকৃতির সলতা আঁতশ বাজি ১২০ টাকা থেকে সর্বনিম্ন ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একই সাথে দোকান গুলোতে গোলাকৃতি লাটিম সাদৃশ্য আঁতশ বাজিগুলো প্রতি পিচ আড়াইশো টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দোকান গুলোতে পটকা ও রকেট আঁতশ বাজির সমাহার দেখা গেছে।
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার শিশু কিশোর ও বখাটে যুবকরা আঁতশ বাজি কেনার ভীর জমিয়ে রেখেছে। বিশেষ করে উপজেলার বখাটে যুবকরা প্রতিনিয়ত গভীর রাতে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে ও ব্রীজের ওপরে এসব আঁতশ বাজি বিকট শব্দে বিস্ফোরন ঘটাচ্ছে। এতে উপজেলার অনেক হার্টের রুগী ঘুমের মধ্যে থেকে আতঙ্কিত অবস্থায় জেগে উঠে আরও অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন।
আর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ হাফিজুর রহমান বলেন, “ আঁতশ বাজির বিকট শব্দ হার্টের রুগীর জন্য জীবন নাশের কারন হতে পারে এবং হার্ট বেড়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, গভীর রাতে বিকট শব্দ দুষণ শুধু রুগী নয়, সাধারন মানুষের মন, মস্তিস্কে আঘাত সহ বিভিন্ন রোগাক্রান্ত হওয়ার কারন হতে পারে”।
এ ব্যপারে চরভদ্রাসন থানা অফিসার ইনচার্জ রোজিউল্লাহ খানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, “উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের আঁতশ বাজির দোকানে এখনো অভিযান হয় নাই। তবে শীগ্রই ব্যাবস্থা নেওয়া হবে”।