২ দফায় সংরক্ষিত সদস্য পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালনের পর বয়সেরভারে এবং শারীরিক অসুস্থতায় নুয্য প্রায় আমিনা খাতুন এখনও কারো নিকট হাত পাতেন না বরং কাজের বিনিময়ে নিজের আহার ও ওষুধের ব্যায় নির্বাহের প্রাণপন চেষ্টা করেই চলেছেন। তারপরও পরিচিত অনেকেই তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে ওষুধ ক্রয়ের জন্য কিছু অর্থ বিনয়ের সাথে তুলে দিলেই কেবলমাত্র তিনি তা গ্রহণ করেন। বলছিলাম বৃহত্তর ০৭ নং বিজোড়া ও ১১ নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক সংরক্ষিত সদস্য আমিনা খাতুন এর কথা।
আমিনা খাতুন সংসার জীবনে ৩ ছেলে ও ৩ মেয়েকে গর্ভে ধারণ করে জন্ম দিয়েছেন। তাদেরকে যত্ন করে বড় হওয়ার পর বিবাহ দিয়েছেন। রয়েছে নাতী ও নাতী-নাতনী। সরকার থেকে এখন গ্রহণ করছেন বয়স্ক ভাতা।
এলাকায় ধাত্রী মা হিসেবে অনেকের সন্তান জন্মগ্রহণের সময় সহায়তা করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। এরপর সমাজের বিভিন্ন সেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করলে সংরক্ষিত সদস্য পদে এলাকাবাসী বিপুল ভোটে জয়ী করেন। একবার এলাকার ২২ জোড়া গরু বিজিবি (তৎকালীন বিডিআর) আটক করে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি মালিকানার প্রমাণ পেশ করে নিজ নিজ গরু মালিককে প্রদানের ব্যাবস্থা করেন। সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে ভিজিএফ, ভিজিডি কার্ডসহ বয়স্কভাতা, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ নানারকমের কাজে কোন উপটৌকন গ্রহণ না করায় দ্বিতীয়বারও সংরক্ষিত সদস্য পদে এলাকাবাসী বিপুল ভোটে তাঁকে জয়ী করেন। এরমধ্যে স্বামীর ইন্তেকাল হয় এবং ব্রেইন স্ট্রোক করে শারীরিকভাবে নুইয়ে পড়েন। শরীর না কুলানোয় আর আগের মত সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। কিন্তু অভাবের সংসারে বসে খেলে চলবেনা, তাই আম বাগানে পাহারারত থেকে নিজের ওষুধের জন্য সামান্য অর্থ তিনি সন্তানদের হাতে তুলে দিয়ে সন্তানের সংসারে বোঝা না হয়ে কিছুটা সহায়তা করতে চান। তাঁর এই মনমানসিকতা দেখে পরিচিতজনেরা সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে সহযোগিতায় ওষুধ ক্রয়ের জন্য কিছু অর্থ বিনয়ের সাথে তুলে দিলেই কেবলমাত্র তিনি তা গ্রহণ করেন। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতায় নুয্য প্রায় আমিনা খাতুনকে বিকাশ নম্বরে কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে ১১ নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বুজুরুক বসন্তপুর গ্রামে অথবা ০১৭৯৬১০১৯৭৯ (পার্সোনাল) বিকাশ নম্বরে সহযোগিতা করতে পারেন।