নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম আদালত চালু নেই। গ্রাম আদালত চালু করার জন্য কার্যকর কোন উদ্যোগও নেই। অথচ প্রতি বছর প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগ উপজেলা পর্যায়ে আয়োজন করে গ্রাম আদালত সম্পর্ককৃত একদিনের কর্মশালা। এতে অংশ নেন উপজেলার নানা শ্রেনী পেশার কিছু মানুষ।
উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে গ্রাম আদালত চালু না থাকায় গ্রাম আদালতের সুফল থেকে বঞ্চিত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি মহোদয়ের পিতা মরহুম মোস্তফা কামাল মনসুর ফরিদ মিয়া যখন ১৯৯৩ সালে কলমাকান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তখন নির্বাচিত হওয়ার পর পর উপজেলায় একমাত্র তিনিই সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গ্রাম আদালত চালু করেন। গ্রাম আদালত সম্পর্কৃত বই পুস্তক সংগ্রহ করে তিনি অফিসে সংরক্ষিত করে নিয়মিতভাবে নিজ পড়েন এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে গ্রাম আদালত সম্পর্কৃত বই পুস্তক মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য নির্দেশ দেন। তার মেয়াদের পুরো ৫ বছর সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গ্রাম আদালত চালু ছিল এবং গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তখন সুফল পেয়েছিল ইউনিয়নের নিরীহ জনসাধারণ। পরবর্তী সময় আর কখনও উপজেলার কোন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়েই গ্রাম আদালত চালু হয়নি। এ ব্যাপারে নাগরিক সমাজের অনেকেই মনে করেন,উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে গ্রাম আদালত চালু সম্পর্কৃত একদিনের কর্মশালার আয়োজন ইতি বাচক। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদেরকে গ্রাম আদালত সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা যায়। এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদেরকে গ্রাম আদালত চালু করার জন্য উৎসাহিত করা হয় তাহলেই সম্ভব গ্রাম আদালত চালু করা।