টেকনাফে স্মরণ কালের ভয়াবহ বর্ষণ, ভূ-কম্পন, পাহাড় ধ্বস ও বন্যার পানিতে ডুবে, পাহাড় ও বসত-বাড়ির দেওয়াল চাপা পড়ে ৩৩ জনের মর্মান্তিক ভয়াল মৃত্যুর ১৬তম বছর ১৫ জুন। পাহাড়ের পাদদেশে এখনও শত শত পরিবারের বসবাস করছে। উপজেলা প্রশাসন এ করুণ ট্র্যাজেডি স্মরণ করেও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সচেতন করার জন্য কোন উদ্যোগ নেয়নি। এছাড়া টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামো ও স্থাপনা পূন. নির্মাণ করে জীবন চলা শুরু করলেও নিহত পরিবার সমূহ শোকের ছায়া থেকে আড়াল হতে পারেনি। এ উপলক্ষ্যে প্রশাসনের কোন উদ্যোগও দেখা যাচ্ছেনা। উপরন্ত এখনো উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেপরোয়াভাবে পাহাড় কাটা ও বসতি স্থাপন বন্ধ হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে আরো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানির আশংকা রয়েছে।
১৫ জুন টেকনাফের ইতিহাসে ভয়াল দিন। ২০১০ সালের ১৪ জুন সকাল থেকে রাতভর টানাবর্ষণ স্থায়ী হয়ে ১৫ জুন ভোর রাতে ভূ-কম্পন হলে বৃষ্টিপাতের মাত্রা প্রবল আকার ধারণ করে। উপজেলার প্রবীণ ও অভিজ্ঞ মহল এ বৃষ্টিপাতকে স্মরণকালের ভয়াবহ বৃষ্টিপাত বলে আখ্যায়িত করেছে। উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদরে পাহাড় ধ্বসে পাদদেশে বসবাসরত জনতার বসত-বাড়ীর উপর পাহাড় ধ্বসে পড়লে ঘুমিয়ে থাকা বিভিন্ন পরিবারের অসংখ্য লোকজন মাটির নিচে চাপা পড়ে। উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ, ও স্থানীয় লোকজন মাটির নিচে চাপা পড়াদের উদ্ধার করেছিল। সেদিনটি ছিল টেকনাফবাসীর জন্য ভয়াবহ ভয়াল দিন।
সেদিন পাহাড় ধ্বসে মাটি চাপা পড়ে টেকনাফ পৌর এলাকার পুরাতন পল্লান পাড়ার ফকিরামুরা ও ওরুমজুরা নামক এলাকার ৩ পরিবারের মো. হাসেমের মেয়ে কুলসুমা আকতার (৭), নুর কলিমা (৩), আব্দুল জলিলের স্ত্রী শাহিনা আক্তার (৩০), পুত্র আব্দুর রাজ্জাক (১১), মেয়ে শিউলি আক্তার (৮), শামীমা আক্তার (৫), মোহাম্মদ শফির স্ত্রী বেলুজা খাতুন (৩০), শিশু পুত্র পুতিন্ন্যা (২), হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়া (মুরা পাড়া) এলাকার নুর মোহাম্মদ (৩৫), লায়লা বেগম (২৮), নাছিমা আক্তার (৫), ১০ মাসের শিশু পুত্র নুরুল আবছার, রঙ্গিখালী কোনার পাড়া এলাকার সোলতান আহমদের পুত্র প্রতিবন্ধী নুরুন্নবী (২৫), হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আমতলীর সাবেক ইউপি মেম্বার কবির আহমদ চৌধুরীর স্ত্রী নাজমা (৩৫), দুই সন্তান আব্দুল্লাহ ফায়সাল (১৫), ইমতিয়াজ হাসান (২), দিলীপ বড়ুয়া (৪২), স্ত্রী সেবিকা বড়ুয়া (৩২), মুজিবুর রহমানের দুই সন্তান শাবনুর (৩), সাঈদুর রহমান (১), হোয়াইক্যং এর নজির আহমদের বাড়ীতে বেড়াতে আসা সিলেট বামই হবিগঞ্জ এলাকার মুজিবুল হক (৪২), আব্দুল জব্বার প্রকাশ কালূ খলিফা (৮০), তার পুত্রবধু দেলোয়ারা (২৬), নাতী ইব্রাহীম (৩), কাটাখালীর কবির আহমদের পুত্র মো. আলম (৪), কেরুনতলী এলাকার ছৈয়দ আলমের পুত্র আবদুল্লাহ (১৪), সরোয়ারের স্ত্রী মরিয়ম (৪০), পুত্র সন্তান গোলাম আকবর (১০), আলী আকবর (১২), কন্যা মর্জিনা (১২), লম্বাবিল এলাকার রশিদ আহমদের স্ত্রী সাবেকুন্নাহার (২৫), কন্যা ইসমত আরা (৩), ওমর মিয়া (৪০) নিহত হয়েছিল। ২০২৬ সালের ১৫ জুন এ ট্র্যাজেডির ১৬ বছর পূর্ণ হলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের স্মরণ ও আত্নীয়-স্বজনদের সান্তনা দেওয়ার কেউ নেই। এ কারণে নিহতের পরিবারে চাপা অভিমানের সুর বাজছে। এখনো টেকনাফের প্রত্যন্ত এলাকার পাহাড়ী জনপদে পাহাড় কর্তন ও জনবসতি অব্যাহত রয়েছে। আগামীতে প্রবল বর্ষণ শুরু হলে আরো বেশী প্রাণহানির আশংকা রয়েছে। এখনও পাহাড়ের পাদদেশে শত শত পরিবার বসবাস করছে। তাদেরকে সচেতন করার কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছেনা। বর্ষা অতি সন্নিকটে। এখন থেকে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আরও ভয়ানক পরিস্থিতির শিকার হওয়ার আশংকা রয়েছে।