প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর ধরে ভাড়া ভবনে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভার কার্যক্রম। দীর্ঘ ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব ভবন পায়নি পুঠিয়া পৌরসভা। সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং অর্থ তছরুপের অভিযোগে থমকে আছে এর স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণ কাজ। ফলে বাধ্য হয়ে একটি ভাড়া করা সংকীর্ণ ভবনে চলছে পৌরসভার দৈনন্দিন কার্যক্রম। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবা নিতে আসা পৌর নাগরিক।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ২৪ জানুয়ারি মাসে ৯ টি ওয়ার্ড নিয়ে স্থাপিত হয় পৌরসভাটি। একই বছরের ৭ মে থেকে পুঠিয়া পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়। পৌরসভার আয়তন ১৩.৫১ বর্গ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন ধরে সীমানা সংক্রান্ত মামলার কারণে দীর্ঘদিন প্রশাসক দিয়ে এর কার্যক্রম চালানো হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালে প্রথম বারের মতো এবং ২০২০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, ২০০৭ সালে পৌর ভবন নির্মাণের জন্য ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় সেই কাজ আর এগোয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার এক কর্মচারী জানান, বিগত দুই মেয়রের আমলে ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা তছরুপ করা হয়েছে। বর্তমানে তহবিল তলানিতে ঠেকে মাত্র ১৬ লাখ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে, যা একটি পূর্ণাঙ্গ পৌর ভবন নির্মাণের জন্য একেবারেই অপ্রতুল।
বর্তমানে পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করলেও বিপুল পরিমাণ ঋণের দায় নিয়ে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম।
পৌর ভবন না থাকায় নাগরিক সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং কর, বিভিন্ন সনদ ও প্রশাসনিক সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনীয় দপ্তর, নথি সংরক্ষণাগার কিংবা নাগরিকদের বসার উপযুক্ত স্থান, কোনোটিই নেই বর্তমান ভাড়া ভবনে।
পৌরসভার ৮নং কাঁঠালবাড়িয়া ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুঠিয়া পৌরসভার ভবন কেন এখনও নির্মাণ হয়নি তা আমাদের বোধগম্য নয়। সাবেক মেয়রেরা ভবনের টাকা নিজেদের ব্যবসায়িক কাজে লাগিয়েছেন বলেই আজ এই দশা।
'স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯' এবং 'ইমারত নির্মাণ বিধিমালা' অনুযায়ী, পৌর ভবনের জন্য জমি নির্বাচন সরকারি খাস, অধিগ্রহণযোগ্য অথবা পৌরসভার নিজস্ব ক্রয়কৃত হতে হবে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, পুঠিয়া পৌর সদরে বেশ কিছু সরকারি খাস জমি রয়েছে, যা অধিগ্রহণ করলেই সহজেই ভবন নির্মাণ সম্ভব।
এ বিষয়ে পুঠিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ বলেন, একটি আদর্শ পৌর ভবন নির্মাণের জন্য যে পরিমাণ জমি প্রয়োজন, তা পৌর সদরের ভেতরে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পুঠিয়া সদর ইউনিয়ন কাউন্সিলের জায়গায় পৌর ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমতি পেলেই দ্রুত ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।