শিবির করার অপরাধে ববির কর্মচারীকে ছাত্রদলের মারধর

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪১ এএম
শিবির করার অপরাধে ববির কর্মচারীকে ছাত্রদলের মারধর

শিবির করায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) চুক্তিভিত্তিক এক কর্মচারীকে রাতে ছাত্রদলের মারধরের পর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী কর্মচারীর নাম মো. সাকিব খান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে বিষয়টি সর্বত্র ছড়িয়ে পরেছে। এরআগে গত ৫ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনন্দবাজার এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ১০/১৫ জন নেতাকর্মী তাকে তুলে নিয়ে মারধর করেন। ওই ঘটনার পর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অফিস সহায়ক হাসানুজ্জামান তাকে মোবাইল ফোনে নিরাপত্তাজনিত কারণে কর্মস্থলে আসতে নিষেধ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর এইচএসসি পরীক্ষার কারণে ছুটিতে থাকায় তার স্থলে সাকিব খানকে গত ৫ জুলাই দৈনিক মজুরিভিত্তিক নিয়োগ করা হয়। ১৫ আগস্ট পরীক্ষা শেষ হলে আগের কর্মচারী কর্মস্থলে ফিরলে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শিবির করায় নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তাকে ৫ আগস্টই কর্মস্থলে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। এর আগে ওই কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত কাজ করেছেন।

ছাত্রদলের মারধর ও শিবির করার অভিযোগে চাকরিচ্যুতির বিষয়ে মো. সাকিব খান বলেন, আমি আনন্দবাজারে চা খেতে গেলে ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক আল হাসান তৌফিক ও মাহমুদ ইমরান আমি শিবির করি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের প্রোগ্রামে লোকবল দিয়েছি বলে আমাকে তুলে নিয়ে মারধর করেন। ছাত্রদলের মোশাররফ ভাই এসে আমার ব্যক্তিগত ফোন চেক করেন এবং এ সময়ও তারা আমাকে মারধর করেন। আমি তাৎক্ষণিক বিষয়টি নিয়ে প্রক্টরকে কল দিয়ে অভিযোগ জানাই। তিনি আমাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। এই ঘটনার পর আমাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকর্মী হাসানুজ্জামান ফোন দিয়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে কর্মস্থলে যেতে নিষেধ করেছেন। এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসাইন বলেন, ওই ঘটনার সময় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটে অবস্থান করছিলাম। তখন জানতে পারি সেখানে ঝামেলা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে জেনেছি, ওই ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্টাফ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। পরে তিনি নিজেও স্বীকার করেন যে, তিনি কিছু গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। মারধরের কোনো ঘটনা আমি দেখিনি এবং এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক সুস্মিতা রায় বলেন, তার সঙ্গে আমাদের এক মাসের একটি চুক্তি হয়েছিল, অর্থাৎ তিনি আর একজনের পরিবর্তে এক মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। তার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাকে কাজে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে