অন্তরঙ্গ দৃশ্যে আপত্তি, শেষ পর্যন্ত সিনেমা ছাড়তে হয় নীহারিকাকে

এফএনএস বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশ: ৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
অন্তরঙ্গ দৃশ্যে আপত্তি, শেষ পর্যন্ত সিনেমা ছাড়তে হয় নীহারিকাকে
ছবি: সংগ্রহীত

কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর এবার চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছেন নীহারিকা এনএম। বলিউডে অভিষেকের পর নিজের ক্যারিয়ারের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। জানিয়েছেন, পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে স্বচ্ছন্দ না হওয়ায় একসময় একটি বড় সিনেমার সুযোগ ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাকে।

গত ৩০ জুলাই মুক্তি পেয়েছে নীহারিকার প্রথম বলিউড সিনেমা ‘ভাই তেরা স্টার হ্যায়’। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন রাঘব জুয়াল। সিনেমাটি মুক্তির আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনয়ে আসার পথ, প্রত্যাখ্যান এবং ক্যারিয়ারে নেওয়া কঠিন কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানান নীহারিকা।

অভিনয়ে আসার আগে থেকেই চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা ছিল তার। সেই লক্ষ্যেই কয়েক বছর আগে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান। সেখানে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রায় তিন বছর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি ফিল্ম স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং থিয়েটারেও কাজ করেন।

তবে বলিউডে ক্যারিয়ারের শুরুটা সহজ ছিল না। বিশেষ করে নারীদের চেহারা, গায়ের রং ও সৌন্দর্য নিয়ে প্রচলিত প্রত্যাশা তাকে হতাশ করেছিল। পাশাপাশি বলিউডের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশও তার কাছে স্বস্তিদায়ক মনে হয়নি।

নীহারিকার ভাষ্য, প্রথম দিকে বলিউডেই কাজের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু নারীদের সৌন্দর্য নিয়ে তৈরি প্রচলিত মানদণ্ডের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে চাননি। পরে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজের দিকে মনোযোগ দেন।

একপর্যায়ে নির্মাতা কার্তিক সুব্বারাজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্টোন বেঞ্চ ফিল্মসের সঙ্গে তিনটি সিনেমার চুক্তি করেন নীহারিকা। তবে এই চুক্তিই পরে তার ক্যারিয়ারের একটি বড় আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চুক্তির মেয়াদ চলাকালে দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি ভালো সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চুক্তির বাধ্যবাধকতার কারণে সেসব সিনেমায় কাজ করতে পারেননি। পরে ওই সিনেমাগুলো বক্স অফিসে সফল হওয়ায় বিষয়টি এখনো তাকে আক্ষেপে পোড়ায় বলে জানান নীহারিকা।

তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় কাজের সুযোগ পান তিনি। এরপর ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এই অভিনেত্রী।

এর মধ্যেই ক্যারিয়ারের আরেকটি কঠিন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন নীহারিকা। এক খ্যাতিমান পরিচালকের সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অডিশন ও লুক টেস্ট দিয়েছিলেন তিনি। সবকিছু পছন্দ হওয়ার পর চুক্তিপত্রেও সই করেছিলেন।

পরে চুক্তিতে থাকা অন্তরঙ্গ দৃশ্যসংক্রান্ত একটি শর্ত নিয়ে আপত্তি জানান নীহারিকা। তিনি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে স্পষ্ট করে জানান, পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে তিনি স্বচ্ছন্দ নন।

তার আপত্তির পর বিকল্প হিসেবে বডি ডাবল ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও কাজে আসেনি। নীহারিকার দাবি, তার সহশিল্পী বডি ডাবলের সঙ্গে ওই দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি হননি।

এরপর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে নীহারিকাকে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়, হয় ওই দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে, নয়তো সিনেমা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থানেই অটল থাকেন নীহারিকা। সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তবে ওই পরিচালক বা সহশিল্পীর নাম প্রকাশ করেননি।

নীহারিকার বক্তব্য, অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার জন্য নিজের ব্যক্তিগত সীমারেখা ও স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গার সঙ্গে আপস করতে চান না তিনি। ক্যারিয়ারে সুযোগ হারানোর ঝুঁকি থাকলেও নিজের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেওয়ার পথই বেছে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।