ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

এফএনএস
| আপডেট: ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম | প্রকাশ: ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

বর্ষা এলেই বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে এবং প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। যদিও চলতি বছরের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা অতীতের ভয়াবহ বছরগুলোর তুলনায় এখনও কম, তবুও পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ডেঙ্গু এমন একটি রোগ, যা অনুকূল পরিবেশ পেলে খুব অল্প সময়েই ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। পরিসংখ্যান বলছে, ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ৫৪ জন। রাজধানীর পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এটি স্পষ্ট করে যে, ডেঙ্গু আর কেবল নগরকেন্দ্রিক সমস্যা নয়; দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এর বিস্তার ঘটেছে। ফলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও হতে হবে জাতীয় পরিসরে এবং সমন্বিতভাবে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দেয়। ২০২৩ সালে ডেঙ্গু ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়; পরবর্তী দুই বছরেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক ছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বছর শুরু থেকেই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, কার্যকর নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন ছিল। বাস্তবে এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি সংস্থার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, ফুলের টব কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হতে পারে। তাই নাগরিকদেরও নিয়মিত নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার দায়িত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করাও জরুরি। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও সময়মতো চিকিৎসা ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি আক্রান্তের প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমি স্বাস্থ্যঝুঁকির সাধারণ বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্যের একটি দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। তাই সাময়িক অভিযান নয়, বরং সারা বছরব্যাপী পরিকল্পিত ও সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। জনসচেতনতা, কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থাই হতে পারে এ সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর পথ।