দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাটে অবস্থিত খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন রোগীর চাপ থাকলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। দিনাজপুর জেলার প্রত্যন্ত এই উপজেলাটিতে প্রায় ২ লক্ষ জনগণের বিপরীতে মাত্র ৫ জন ডাক্তার দিয়েই দায়সারা ভাবে চলছে চিকিৎসা সেবা।হাসপাতালটিতে ৩১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৭ জন। এর মধ্যে আবার দুজন চিকিৎসক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। ফলে চিকিৎসক সংকট আরও প্রকট হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালটিতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে গর্ভবতী নারীদের জন্য গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা গর্ভবতী নারীরা।
খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও)(ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মোঃ ফেরদৌস আলম রাসেল চৌধুরী জানান ,প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৩০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগেও ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ রোগী সেবা নিতে আসেন বলে জানিয়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের বাড়তি চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটও রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়েও তৈরি হচ্ছে নানা সমস্যা।
খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শাহনিমা তরফদার জানান, হাসপাতালে ৩১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৭ জন। এর মধ্যে দুজন চিকিৎসক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক ও জনবল সংকট থাকায় সেবা দিতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ বিবেচনায় দ্রুত চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করা প্রয়োজন,এতে খানসামার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।