পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ধামোর হাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মাত্র তেরো জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও পাস করেছে মাত্র এক জন। বিদ্যালয়টিতে বারো জন শিক্ষকের বিপরীতে মাত্র এক জন শিক্ষার্থী পাস করায় শিক্ষকদের দক্ষতা ও পাঠদানের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ধামোর হাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অনিয়মিত তিনজন জন এবং নিয়মিত তেরো জন সহ মোট ষোল জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, নিয়মিত তেরো জনের মধ্যে মাত্র একজন কৃতকার্য হয়েছে। আর অনিয়মিতদের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে দুই জন। অর্থাৎ বিদ্যালয়টির পাসের হার নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নিয়মিতদের মধ্যে মাত্র তেরো জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরও মাত্র এক জন পাস করায় বিদ্যালয়ের পাঠদান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, একাডেমিক তদারকি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, অকৃতকার্য বারো জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকেই ইংরেজি বিষয়ে ফেল করার পাশাপাশি কয়েকজন গণিত, পদার্থ সহ অন্যান্য বিষয়েও ফেল করেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, একজন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান, মডেল টেস্ট, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস এবং শিক্ষকদের নিবিড় তদারকি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এসব কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এদিকে বিদ্যালয়টিতে একাধিক শিক্ষক দায়িত্ব পালন করলেও নিয়মিত তেরো জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র এক জন পাস করায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এত কমসংখ্যক পরীক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও ৯২.২ শতাংশ ফেল করার কারণ কী তা খতিয়ে দেখতে শিক্ষা বিভাগের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু ফলাফল প্রকাশ করেই বিষয়টি শেষ না করে বিদ্যালয়টির গত কয়েক বছরের এসএসসি ফলাফল, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম এবং শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব পর্যালোচনা করা উচিত। একই সঙ্গে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল জব্বার দাবি করে বলেন, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে শতভাগ চেষ্টা করে গেছি। নিয়মিত তেরো পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র এক জন পাস করার সত্যি হতাশাজনক। আমাদের শিক্ষার্থীদের ভালো রেজাল্ট করার জন্য ভবিষ্যতে আরো চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তবে বারো জনই কেন শুধু ইংরেজি বিষয়ে ফেল করল সেই বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
আটোয়ারী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহেদুল ইসলাম জানান, যে সকল প্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হয়েছে ওই প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে আমরা অতি শিগগিরই একটা মিটিংয়ের ব্যবস্থা করব। শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।