কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা আদ্রা উওর ইউনিয়নে অবস্থিত মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার ভবনে মেরকট বাজার কিন্ডার গার্টেন নূরানীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা নামে দীর্ঘদিন যাবৎ নূরানী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল গফুর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মেরকোট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা একটি এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের একই ভবনে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল গফুরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে নূরানী হাফেজিয়া নামের একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। ওই নূরানী প্রতিষ্ঠানে প্রথম জামাত থেকে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত প্রায় ৭৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। একই সঙ্গে শ্রেণিভেদে নূরানী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বেতন আদায় করছে। মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল গফুর। ভুক্তভোগীর আরো অভিযোগ করে বলেন দাখিল মাদ্রাসার শ্রেণী কার্যক্রম চলাকালীন নূরানী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ডে-কেয়ার পড়ানোর নামে আলাদা প্রতি মাসে ২০০টাকা নেয় মাদ্রাসা সুপার।
গত ১৫ আগস্ট শনিবার সকালে সরেজমিনে মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা ভবনে গিয়ে দেখা যায়, অফিস কক্ষে সুপারের উপস্থিতিতে মাদ্রাসা পূর্ব পাশে চারটি শ্রেণিকক্ষে নূরানি বিভাগের পাঠদান চলছে। সেখানে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল ও মাওলানা মোশাররফ হোসেন শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নূরানী তৃতীয় জামাত একটি শ্রেণীকক্ষে দেখা যায় ৪টি পাঠ্যবইয়ের মধ্যে ৩টি বেসরকারি প্রকাশনার বই দিয়ে পাঠদান চলতেছে।
ভূক্তভোগী অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমরা প্রথম শ্রেণিতে মাসিক বেতন বাবদ ২০০ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৩০০ টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ৩৫০ টাকা বেতন নিয়েছে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল গফুর। এছাড়া ডে-কেয়ার বাবদও অতিরিক্ত ২০০ টাকা করে নিয়েছে।
মাদ্রাসা প্রথম জামাতের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন মা নাছিমা আক্তার বলেন, আমার ছেলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। আমরা প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে বেতন দিচ্ছি এবং ডে-কেয়ার বাবদ আরও ২০০ টাকা দিয়ে আসতেছি।
মাদ্রাসা তৃতীয় জামাতের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, আমরা প্রথম জামাত থেকে মাসিক বেতন দিয়ে পড়ালেখা করে আসছি। আমাদের মাদ্রাসা নাম মেরকট বাজার কিন্ডারগার্টেন নূরানীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা। আমাদেরকে হুজুরারা নূরানি সিলেবাস অনুযায়ী পড়ালেখা করায়।
নূরানী মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মোশাররফ বলেন আমাদের নুরানি শাখায় ৭৫জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সরকারি পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নূরানী কিছু বই থেকে আমরা পাঠদান করি। দাখিল মাদ্রাসার সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। এটি আলাদা একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল গফুর সাহেব আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রধান।
দাখিল মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা ফয়জুল্লাহ বলেন, এটি মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার একটি শাখা। আমরা নূরানি শাখা হিসেবে এটি ব্যবহার করছি। আমরা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মত করে পরিচালনা করছি। আমরা এ শাখাটি তিনজনের দায়িত্বে পরিচালিত হচ্ছে। নূরানী মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা রিয়াদ হোসেন বলেন, আমরা প্রধান শিক্ষকের আদেশক্রমে প্রতিমাসে ১ম জামাত ২০০টাকা, ২য় জামাত ৩০০টাকা ও ৩য় জামাত ৩৫০টাকা মাসিক বেতন আদায় করি।
মাদ্রাসা দাতা সদস্য আবুল কালাম বলেন, মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পরও এখানে নূরানী কার্যক্রম চলছে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ভবনে কীভাবে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। নূরানী কার্যক্রমটি কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের হিসাব কী এবং এমপিওভুক্ত দাখিল মাদ্রাসার ভবন ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে কি না এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
এবিষয় মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল গফুরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যস্ত আছি, মাগরিবের পর ফোন করব।’ পরে মাগরিবের পর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
এবিষয় নাঙ্গলকোট উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার ও অত্র প্রতিষ্ঠানের সাবেক এডহক কমিটির আহ্বায়ক আনিসুর রহমান বলেন, মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা নুরানি শাখা ছিলো না, আমি জানতাম না, হয়তো নতুন করে তারা এ শাখা পরিচালনা করছে। নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, আমি নূরানী শাখা সম্পর্কে অবগত নয়, এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ভবনে নূরানী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার কোন নিয়ম নাই, তবুও আমি মাদ্রাসা সুপারের সাথে যোগাযোগ করে সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অত্র প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির আহ্বায়ক আবু রায়হান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।