অতিশয় বৃদ্ধের রোজা রাখার নিয়ম

এফএনএস ধর্ম : | প্রকাশ: ২৫ মার্চ, ২০২৫, ০৮:২৫ এএম
অতিশয় বৃদ্ধের রোজা রাখার নিয়ম

যেসব নারী-পুরুষ অতিশয় বার্ধক্যের কারণে দুর্বল বা অসুস্থ হয়ে মৃত্যুশয্যায় উপনীত, তাদের জন্য রোজা না রাখা বৈধ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হে মুমিনরা, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। নির্দিষ্ট কয়েক দিন। তবে তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে কিংবা সফরে থাকবে, তাহলে অন্যান্য দিনে সংখ্যা পূরণ করে নেবে।

আর যাদের জন্য তা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য ফিদিয়া তথা একজন দরিদ্রকে খাবার প্রদান করা। অতএব, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত সৎ কাজ করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর হবে। আর সিয়াম পালন তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৩-১৮৪)

মাসআলা : রোজা রাখতে অক্ষম বৃদ্ধ ব্যক্তি রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া আদায় করবেন।

(কামুসুল ফিকহ : ৪/৪৫০)

বৃদ্ধের সংজ্ঞা এভাবে দেওয়া হয়েছে, এই পরিমাণ বৃদ্ধ যে তার মধ্যে একেবারে ক্ষমতা নেই এবং মৃত্যুর নিকটবর্তী পৌঁছে গেছে, বয়সের কোনো সীমা নেই। শক্তি থাকা এবং না থাকাটাই বিবেচ্য। যতক্ষণ পর্যন্ত রোজা রাখতে পারে যদিও না কি কষ্টের সঙ্গে হয়, রোজা রাখবে। কাজা রোজা ধারাবাহিকভাবে রাখা প্রয়োজন নেই।

পৃথক করে রাখবে ফিদিয়া দেওয়া ওই সময় পর্যন্ত যথেষ্ট নয়; যতক্ষণ পর্যন্ত একেবারে রোজা রাখার ক্ষমতা হারিয়ে না ফেলে, কোনোভাবেই রোজা রাখতে পারে না।

রোজার ফিদিয়ার পরিমাণ

রোজার ফিদিয়া হচ্ছে, একজন মিসকিনকে দুই বেলা ভরপেট খাবার খাওয়ানো। মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবের বেশির ভাগ আলেমের মতে, খাদ্যদানের মাধ্যমে রোজার ফিদিয়া আদায় করবে।

তবে হানাফি মাজহাব মতে, খাবারের পরিবর্তে প্রতি রোজার জন্য সদকাতুল ফিতর পরিমাণ দ্রব্য বা মূল্য দিলেও ফিদিয়া আদায় হয়ে যাবে।

সদকাতুল ফিতিরের পরিমাপ হলো এক কেজি ৬৫০ গ্রাম গম, আটা বা তার মূল্য অথবা তিন কেজি ২৭০ গ্রাম জব, খেজুর, পনির ও কিশমিশ বা তার মূল্য গরিবকে দান করা।

(রদ্দুল মুহতার : ৫/১৪৪)

মাসআলা : ফিদিয়া আদায় করার পর সুস্থ হলে ভাঙা রোজাগুলো কাজা করতে হবে। আগের ফিদিয়া প্রদান যথেষ্ট হবে না। তবে ফিদিয়া আদায়ের কারণে তার সওয়াব আমলনামায় থেকে যাবে।

(রদ্দুল মুহতার : ৩/৪৬৫)

মাসআলা : ফিদিয়া আদায় করার মতো কোনো সম্পদ না থাকলে তাওবা-ইস্তিগফার করবে। সেই সঙ্গে এই নিয়ত রাখা যে ‘আল্লাহ তাআলা সচ্ছলতা দান করলে ফিদিয়া আদায় করে দেব।’ অসচ্ছল অবস্থায় মারা গেলে আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। কারণ সাধ্যের বাইরে বান্দার ওপর আল্লাহ কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৪৪৯, আপকে মাসায়েল : ৪/৬০২)

মাসআলা : প্রশ্নÑরমজান মাসের ফিদিয়ার টাকা যদি রমজান আসার আগেই অগ্রিম দেওয়া হয়, তাহলে কি ঠিক হবে?

উত্তর : রমজান শুরু হওয়ার আগে ফিদিয়া দেওয়া ঠিক নয়। রমজান শুরু হওয়ার পর দেবে। রমজান মাস শুরু হওয়ার পর বাকি সামনের দিনের ফিদিয়াও একসঙ্গে দিতে পারবে। এর বিপরীতে সদকায়ে ফিতর রমজান মাস আসার আগেও দেওয়া বৈধ; বরং কয়েক বছরের সামনের ফিতরও দিতে পারবে। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৪৩৬)

মাসআলা : জাকাতযোগ্য খাতে ফিদিয়া দিতে হবে।

(রাদ্দুল মুহতার : ২/৭৯, ৮৫৪)

মাসআলা : ফিদিয়ার অর্থ কোনো এতিমখানায় প্রদান করা যাবে। নাবালেগ নিঃস্ব এতিমের পেছনে ব্যয় করার জন্য তার অভিভাবককে অর্থ দেওয়া জায়েজ আছে।

(ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম : ৬/২৫৮, রাদ্দুল মুহতার : ২/৮৫)

0 LIKE
0 LOVE
0 LOL
0 SAD
0 ANGRY
0 WOW
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে