পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবারের ঈদটা অন্যরকম কাটবে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতাকর্মীদের।সেই সুবাদে
মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপন করার জন্য স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাসহ সপরিবারে চাঁদপুরে চলে এসেছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এবং চাঁদপুর - হাইমচর সদর আসনে ধানের শীষের বাহক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। ঈদ করার জন্য সপরিবারে তিনি তার শহরের বাসভবন মনিরা ভবনে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে ।
৩১ মার্চ সোমবার ঈদের দিন সকালে তিনি চাঁদপুর পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় পুরান বাজার মধুসূদন হাই স্কুল ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন এবং উপস্থিত মুসল্লিদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর বাসায় অবস্থান করে প্রিয়জন ছাড়াও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক শরিফ উদ্দিন আহমেদ পলাশ।
এবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ এবং নেতাকর্মীদের সাথে দেখা-সাক্ষাত নির্বাচনী আমেজে থাকা দলটির নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত।
চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলেন। বিএনপি নেতাকর্মীর কোনো অধিকারই ছিল না। তারা বছরের পর বছর ফেরারি ছিলেন। তবে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান শুধু দলের নেতাকর্মী নয়, সারাদেশে সবার জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে।’
জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের ওই নেতা আরো জানান, ওয়ান-ইলেভেনে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে তাদের ফেরারি জীবন শুরু। এর পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে রাজনৈতিক জীবন। নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার হিড়িক পড়ে। মামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে নেতাকর্মীরা ঘরবাড়ি ছেড়ে ভুলে যান ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব। অভ্যুত্থানের পর ফেরারি জীবন থেকে বাড়ি ফিরেছেন; এবার মুক্ত বাতাসে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন নেতারা।
এদিকে, জেলার অন্যান্য আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারাও নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন। তারা দলীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঈদ করছেন। আগামী নির্বাচনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তৃণমূলকে আস্থায় নিতে এলাকায় অবস্থান করছেন। বিগত দিনে নির্যাতিত নেতাকর্মী ছাড়াও গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীর পরিবারের কাছে যাচ্ছেন। ঈদসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। জনসংযোগ, সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। ঐক্য ও শান্তির বার্তা দিচ্ছেন।