তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ সংকট

শিক্ষার্থীদের কথা ভাবতে হবে

এফএনএস | প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
শিক্ষার্থীদের কথা ভাবতে হবে

দেশজুড়ে তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ সংকট। এমন বাস্তবতায় চলছে এসএসসি পরীক্ষা, যা লাখো শিক্ষার্থীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। প্রশ্ন হলো, লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের প্রস্তুতি ও মানসিক স্থিতি কতটা ব্যাহত হচ্ছে এবং এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি কতটা কার্যকর। গরমে দীর্ঘসময় পড়াশোনা করা শিশু ও কিশোরদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশকে অস্থির করে তুলছে। পরীক্ষার আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি অনেকাংশেই নির্ভর করে রাতের পড়াশোনার ওপর। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় আলো, পাখা, শীতল পরিবেশ-সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। এতে মনোযোগ ভেঙে যাচ্ছে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ জরুরি। পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে অন্তত সন্ধ্যা ও রাতের নির্দিষ্ট সময়গুলোয় লোডশেডিং কমানো উচিত। এলাকাভিত্তিক সময়সূচি আগাম জানানো হলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার পরিকল্পনা করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পূর্ব ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তারা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে বৈষম্যও স্পষ্ট। রাজধানীতে তুলনামূলক কম লোডশেডিং হলেও পল্লি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একটি জাতীয় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শুধু কেন্দ্রীয় উদ্যোগ নয়, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। জেনারেটর বা সোলার বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কমিউনিটি পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প আলো বা শীতল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এ সংকট আমাদের বড় বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহ বাড়ছে, বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহ ও উৎপাদন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এ চাহিদা মেটাতে পারছে না। ফলে প্রতি বছরই গ্রীষ্মকাল এলেই একই সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ ছাড়া বিকল্প নেই। তবে এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। পরীক্ষার্থীরা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, তারা ভবিষ্যতের নাগরিক। একটি রাতের অস্বস্তি বা একটি দিনের অসুবিধা তাদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি সিদ্ধান্তে তাদের কথা অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।