স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিয়ম

শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে খেলা বন্ধ হোক

এফএনএস
| আপডেট: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম | প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে খেলা বন্ধ হোক

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারের স্কুল ফিডিং বা মিডডে মিল প্রকল্প নিঃসন্দেহে একটি মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু সামপ্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলায় দেখা যাচ্ছে, এই প্রকল্পের খাবার খেয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কোথাও পচা ডিম, কোথাও আধাপাকা এমনকি কাঁচা কলা, আবার কোথাও দুর্গন্ধযুক্ত পাউরুটি- এসব খেয়ে শিশুদের বমি, পেটব্যথা এমনকি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন ঘটনা শুধু উদ্বেগজনক নয়, বরং ক্ষোভেরও জন্ম দেয়। কারণ শিশুদের জন্য নেওয়া একটি জাতীয় উদ্যোগকে অসাধু ঠিকাদার ও দুর্নীতিবাজদের হাতে এভাবে বিপর্যয়ে পরিণত হতে দেওয়া যায় না। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্রেফ মুনাফার লোভে খাদ্যের মান ও পরিবহণের ন্যূনতম নিয়মও মানছে না। আরও ভয়াবহ হলো, অনেক প্রধান শিক্ষক খাবারের মান নিয়ে আগেই আপত্তি জানিয়েছিলেন, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। অভিযোগ আছে, নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া এবং তদারকির অভাবই এই অনিয়মের মূল কারণ। যেখানে এই প্রকল্প পরিচালনার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেখানে মান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ‘কিছু ভুলত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করা দায়িত্বজ্ঞানহীন। শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ভুলকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সরকারের পক্ষ থেকে অনিয়ম সহ্য না করার হুঁশিয়ারি ইতিবাচক হলেও কেবল মৌখিক সতর্কতা বা জরিমানা যথেষ্ট নয়। যেসব প্রতিষ্ঠান শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সক্রিয়ভাবে তদারকি করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই নিম্নমানের খাবার শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে না পারে। এখানে মনে রাখতে হবে, স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শিশুদের বিদ্যালয়ে আকৃষ্ট করা এবং তাদের বেড়ে ওঠার পথে সহায়ক হওয়া। যদি তারা বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে। শিশুদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস করা যায় না। দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট আমাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে আসে। শিশুদের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা শুধু একটি প্রকল্পের দায়িত্ব নয়, বরং রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তাই সরকারকে দ্রুত এই দুর্নীতির জাল ছিন্ন করতে হবে এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিশুরা কোনো পরিসংখ্যান নয়, তারা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করা মানে দেশের আগামীকে সুরক্ষিত করা। তাই স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিয়ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।