উচ্চ শিক্ষিত বেকারত্ব আজকের বিশ্বে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। উচ্চ শিক্ষিত তরুণরা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে চাকরির প্রত্যাশা করে। শিক্ষার স্তর যত বেশি, তত চাকরির প্রত্যাশা এবং দক্ষতার প্রয়োজনও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু অনেক দেশে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল এবং দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে, উচ্চ শিক্ষিত তরুণরা দীর্ঘ সময় চাকরি না পাওয়ার কারণে কর্মবিমুখ হয়ে পড়ে। এটি শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলে। শ্রমবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে যোগ্য বা আশানুরূপ চাকরির মিল না থাকা, প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব এবং উৎপাদিত নতুন চাকরির সংখ্যা সীমিত হওয়া এই সমস্যাকে ত্বরান্বিত করে। এর ফলে মানবসম্পদে বিনিয়োগের রিটার্ন কমে যায়, অর্থনৈতিক চাহিদা হ্রাস পায় এবং দেশের সামগ্রিক উৎপাদন ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিক্ষিত তরুণদের বিশাল একটা অংশ বেকারত্বের কারণে হতাশাগ্রস্ত। সদ্য লেখাপড়া শেষ করা নাগরিকদের মাঝে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা বেকারত্ব নামক মহামারী’র শিকার হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। বেকারত্ব একটি সামাজিক ব্যাধি অথবা সংকট। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সব শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে তাদের অধিকাংশ অভিভাবকই চান তাদের সন্তানরা শিক্ষাজীবন অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষে অবশ্যই একটি ভালো সরকারি চাকরি পাবে এবং বাকি জীবন সুখে শান্তিতে কাটাবে। এ ধরনের প্রত্যাশা অভিভাবকের রয়েছে। কিন্তু বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা না পারছে বেকারত্বের অবসান ঘটাতে না পারছে মানবিক করে তুলতে। অথচ পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে তরুণরাই রাষ্ট্রকে উন্নত সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে। আমাদের দেশটাও তারুণ্যনির্ভর। কিন্তু বেকারত্ব দূরীকরণে যুব ও তরুণ সমাজকে কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বেকারত্ব। বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার এক বিরাট অংশ বেকার। শিক্ষিক, অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবকদের অভিভাবকদের আয়ের ওপর চলতে হয়। প্রতিবছর আমাদের শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। বেকার তরুণদের মানসিক চাপ মোকাবিলায় রাষ্ট্র ও সমাজকে সংবেদনশীল হতে হবে। সমাজ যখন মানুষকে বড় স্বপ্ন দেখতে বাধ্য করে কিন্তু সেই স্বপ্ন ছোঁয়ার সিঁড়িগুলো কেড়ে নেয়, তখন সেই সমাজ আসলে নিজেই নিজের ধ্বংসের বীজ বপন করে। বাংলাদেশের যুবসমাজের এই অবরুদ্ধ আকাঙ্ক্ষা আজ এক জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। একে কেবল জিডিপির প্রবৃদ্ধি দিয়ে ঢেকে রাখা সম্ভব নয়। এ সমস্যা সমাধানে সরকারি সদিচ্ছা যেমন জরুরি, তেমনি সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বেরও প্রয়োজন। বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষিত ও পরিশ্রমী জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন ধরনের কাজে উৎসাহী করে তুলতে পারলেই বেকারত্বের বিশাল বোঝা কিছুটা হলেও লাঘব হবে।