পারমাণবিক বিদ্যুৎ

সম্ভাবনা ও সতর্কতার দ্বৈত বাস্তবতা

এফএনএস
| আপডেট: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম | প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
সম্ভাবনা ও সতর্কতার দ্বৈত বাস্তবতা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে গত মঙ্গলবার ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশের মাধ্যমে দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী বিশ্বের ৩৩তম রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘ কয়েক দশকের পরিকল্পনা, চুক্তি ও প্রস্তুতির পর অবশেষে এ উদ্যোগ বাস্তব রূপ পাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় মাইলফলক। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে। রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ পূরণ করবে। কয়লা বা গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনবল তৈরির ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে গুরুতর সতর্কতার বিষয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মানেই বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি। যদিও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন কর হচ্ছে। তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জ্বালানি প্রবেশ করানো থেকে শুরু করে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ, কারণ এ বর্জ্য হাজার বছর পর্যন্ত তেজস্ক্রিয় থাকে। তাই নিরাপদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ও ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নও আছে। করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে কাজ পিছিয়েছে প্রায় সাড়ে তিন বছর। এতে খরচ বেড়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর কোনো বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে হবে, যাতে প্রকল্পের অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায়। বাংলাদেশের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন উৎস নয়, বরং প্রযুক্তিগত সক্ষমতারও প্রতীক। তবে এ অর্জনকে টেকসই করতে হলে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও দক্ষ জনবল তৈরির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নির্দেশিকা মেনে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করা ছাড়া বিকল্প নেই। আমরা মনে করি, রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও সমানভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে। নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে যদি এ প্রকল্প সফলভাবে পরিচালিত হয়, তবে এটি দেশের উন্নয়নযাত্রায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হয়ে থাকবে।