উপকূলে মৌচাষে স্বাবলম্বীতার বার্তায় সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে টেকসই ও বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরীতে খুলনার কয়রা কমিউনিটি ভিত্তিক মৌচাষীদের অংশগ্রহণে এক ব্যাতিক্রমী মধু মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১জুন) বিকাল ৩টায় উপজেলার উত্তরবেদকাশী ইউনিয়নের পরিষদ মাঠে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা "প্রত্যাশী "স্থানীয় মৌচাষিদের উৎপাদিত মধুর প্রচার, বাজার সম্প্রসারণ এবং মৌচাষে আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই মধু মেলার আয়োজন করে। প্রত্যাশীর প্রকল্প সমন্নয়কারী মোঃ সোহেল হোসেনের সভাপতিত্বে ও কমিউনিটি মোবাইলাজার আলমগীর হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্টানে বক্তব্য রাখেন, উত্তরবেদকাশী ইউপি চেয়ারম্যান সরদার নূরুল ইসলাম কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ও রেঞ্জার মোঃ নাসির উদ্দীন, কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট আদালতের বন মামলা পরিচালক মোঃ সাদেকুর রহমান,কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিয়াছাদ আলী, সাংবাদিক ফরহাদ হোসেন, মৌচাষী গ্রুফ ফ্যাসিলিটেটর মোল্যা মনিরুজ্জামান, প্রত্যাশীর প্রজেক্ট অফিসার কল্যান বসাক, কমিউনিটি মোবিলাইজার রেশমা খাতুন ,স্থানীয় মৌচাষী ইয়াছিন আলী, ফতেমা খাতুন , প্রমূখ। স্থানীয় মৌচাষী ফতেমা খাতুন বলেন, আমাদের অঞ্চলে বাক্স পদ্ধতিতে এর আগে কখনো মধু চাষ হত না। এই প্রথম আমরা প্রত্যাশী এনজিওর সহযোগীতায় প্রশিক্ষন পেয়ে একটি বাক্স দিয়ে মধুর চাষ শুরু করেছি। বক্স পদ্ধিতে বাণিজ্যিক ভাবে মধু চাষ করে আমরা সফল হয়েছি। আগামীতে আরো বড় পরিসরে মধুচাষ বাড়াবো।
মেলায় বিভিন্ন স্টলে মৌচাষিদের উৎপাদিত খাঁটি মধু, মৌচাষের সরঞ্জাম এবং মধুভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করা হয়। দর্শনার্থীরা স্টল পরিদর্শন করে মধুর গুণাগুণ ও মৌচাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, মৌচাষ পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক একটি জীবিকা। সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে কমিউনিটি ভিত্তিক মৌচাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।