শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খালের পুন:খনন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে করে পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পর পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সান্নিধ্যে পাচ্ছেন পিএমখালীবাসি। কৃষি, মৎস্য, লবণ চাষ নির্ভর ২৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ইউনিয়ন পিএমখালী। কক্সবাজার সদর উপজেলার এই ইউনিয়নের বাসিন্দারা দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্র প্রধানের সাক্ষাৎ পেতে যাচ্ছে ১৩ জুন। ১৯৭৯ সালের ৪ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন অবহেলিত এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে কৃষি নির্ভর ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সেচ ব্যবস্থাপনা খুবই জরুরী। তিনি দীর্ঘ সাড়ে ৮ কিলোমিটার পাতলী খাল খনন করে পিএমখালীবাসির অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন। কালের আবর্তে পাতলী খালটি দখল এবং দূষণ ছোট হয়ে আসে। একসময়ের খরস্রোতা নদী সময়ের পরিক্রমায় খালে পরিণত হয়। দীর্ঘ সাড়ে আট কিলোমিটারের খালটি শতাধিক দখলদার নদীর তীর দখল করে নদীকে সংকুচিত করে ফেলেছে। বিগত সময়ে খালটি নামে মাত্র খনন করে বিপুল অর্থ লোপাট করার অভিযোগ থাকলেও এর সুফল পায়নি অর্ধ লক্ষ জনসাধারণ।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাটি বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করলেও দখল উচ্ছেদ ঠেকাতে পারেনি। ফলে নদীর পানি ধরে রেখে ২১শ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ আকাশ কুসুম হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রেখে চাষাবাদের জন্য পাতলী খাল খনন করার বিকল্প ছিল না। তবে এবার কৃষকদের ত্রাতা হয়ে আসছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৩ জুন সকাল সাড়ে দশটায় ভরাট হয়ে যাওয়া সাড়ে আট কিলোমিটার পাতলী খালের পুন: খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি।
পিএমখালীর মাইজপাড়া ও গোলার পাড়ার মধ্যবর্তী ফ্রিজের পাশে ৫০ ফুটের দীর্ঘ মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে। বৃষ্টিও প্রতিকুল আবহাওয়া বিবেচনা করে ওপরে ত্রিপল দিয়ে ১০০ ফুটের এই মঞ্চে তারেক রহমান খাল খনন উদ্বোধনের পর সংক্ষিপ্ত ভাষন দেবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন পিএমখালীর হাজারো মানুষ। পিতার পর পুত্রকেও কাছে পেতে যাচ্ছেন অনেক বয়োবৃদ্ধ।
পিএম খালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদ বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। প্রস্তুত রয়েছে মঞ্চ। প্রস্তুত করা হয়েছে পাতলী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার জায়গাটিও। অন্তত লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের আশা আমরা করছি। আমাদের যেহেতু জায়গা ছোট তবে উন্মুক্ত হওয়ার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা লোকজন অবস্থান নিতে কোন সমস্যা হবে না।'
ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি কলেজ, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ পাতলী খালটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে নামকরণ করার দাবি জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ বলেন, 'শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন পাতলী খাল খনন করেন তখন আমরা উপস্থিত ছিলাম। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা দেখে আমরা অভিভূত হই। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাস্রমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সারাদিন অবস্থান করে সাধারণ মানুষের সাথে খাল খনন করেছিলেন। পরে খাল দেখতে এসেছিলেন তৎকালীন বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্টার রবার্ট ম্যাকনামারা, নেপালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীও পাতলী খাল পরিদর্শনে আসেন। পিএমখালীবাসির জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয় হলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েই পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে পুনরায় খাল খনন করে যাচ্ছেন। আমরা পিএমখালী বাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাই এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। খনন শেষ হলে এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হবে বলে আমার বিশ্বাস।' কক্সবাজার সদর-রামু-ঈদগাও আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল বলেন, পাতলী খাল পিএমখালীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে রাবার ড্যামের পানি ধারণ করে পুরো এলাকা চাষাবাদ করা যায়। প্রধানমন্ত্রী পিএম খালীতে আসছেন-এটা কক্সবাজারবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়। আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি তাকে বরণ করার জন্য। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার উক্ত জায়গা পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আমার বিশ্বাস কক্সবাজারবাসী প্রধানমন্ত্রীর সফরে অনেক কিছু পেতে যাচ্ছেন। পিএম খালিবাসীকে ধৈর্য ধারণ করে সুশৃঙ্খলভাবে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে অর্থবহ করতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।