পত্নীতলার নতুন ভ্রমণ কেন্দ্র ঘুকসির বিল, উপচেপড়া পড়া ভিড়

এফএনএস (মোঃ আতাউর রহমান; পত্নীতলা, নওগাঁ) : | প্রকাশ: ১ আগস্ট, ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
পত্নীতলার নতুন ভ্রমণ কেন্দ্র ঘুকসির বিল, উপচেপড়া পড়া ভিড়

"ঘুকসির বিল"। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে বিলটি যৌবন ফিরে পেলেও খরা মৌসুমে এটি পরিণত হয় বিস্তির্ণ ফসলের মাঠে। যে জমিতে বর্ষাকালে নৌকা চলে সে জমিতেই খরা মৌসুমে কৃষককে শ্যালো মেশিন বসাতে হয় জমিতে সেচ দিয়ে আবাদ করার জন্য। তাই খরা মৌসুমে ঘুকসি বিলের পরিণতি হয় দেশের আর দশটা বিলের মতোই। সম্প্রতি নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত ঘুকসি বিলের সৌন্দর্য চারিদিকে সাড়া ফেলেছে। বিলের পানি আর প্রত্যন্ত গ্রামের নৈসগিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য প্রতিদিন হাজারো ভ্রমণ পিয়াসু ভিড় করছে বিল পাড়ে। ভ্রমণ পিয়াসুদের বিলের স্বচ্ছ পানিতে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য প্রায় ২০টি ছোট-বড় নৌকা ও স্পিডবোট রয়েছে। জনপ্রতি ৫০-১০০ টাকার বিনিময়ে নৌকা আর স্পিডবোটগুলো বিলের চারপাশ ঘুরিয়ে নিয়ে আসছেন।  অনেকেই বন্ধুবান্ধব আর পরিবার নিয়ে জলকেলিতে মেতে উঠছেন বিলের স্বচ্ছ পানিতে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে ভাইরাল হওয়া ঘুকসি বিলের অবস্থান নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার আমাইড় ইউনিয়নের নান্দাশ গ্রামে। বিলটি মুলতঃ পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলার সংযোগস্থল। বিলের ওপারে ধামইরহাট উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়ন। দুই উপজেলার মাঝখান দিয়ে বহমান সুবিশাল খাড়ি ও খাড়ি সংলগ্ন নিচু এলাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে বিলে রুপ নেয়। বিলের উভয়পাশের গ্রামীণ জনপদ আর বনরাজি যেন বিলের সৌন্দর্যকে বহুগুড়ে বাড়িয়ে দেয়।

শুক্রবার বিকেলে ভাইরাল হওয়া ঘুকসির  বিলে গিয়ে দেখা যায় হাজারও নারী-পুরুষের সমারোহ। বন্ধু, বান্ধব আর পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ বিলে ছুটে এসেছেন ক্ষনিকের প্রশান্তির নেওয়ার জন্য। বিলটি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় এখানে কোন বাস যোগাযোগ নেই। ভ্যান, ইজিবাইক, নছিমন, করিমন, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারযোগে বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে ভ্রমণপিয়াসুরা এখানে এসেছেন। ভ্রমণ পিয়াসুদের আনাগোনায় বিভিন্ন খাবার ও খেলনার দোকান বসায় এলাকাটি যেন গ্রামীণ মেলায় রুপ নিয়েছে। বিল সংলগ্ন খেলার মাঠটি পরিণত হয়েছে গ্যারেজে। লাইন ধরে টিকিট কেটে মানুষ নৌকা আর স্পিডবোটে চেপে বিল দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। নান্দাশ গ্রামের আব্দুল হামিদ বলেন, গত ১বছর আগেও এখানে তেমন একটা কেউ আসতনা। এ বছরই প্রথম ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ আসছেন। গ্রামে অনেক মানুষের আনাগোনা বৃদ্ধি হওয়ায় অনেকেই বিলপাড়ে খাবারসহ নানারকম দোকান বসিয়েছেন। পত্নীতলা থেকে ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে আসা শিক্ষক গৌর চন্দ্র বলেন, বেশকিছু দিন ধরেই ঘুকসির বিলের কথা শুনছিলাম আজকে দেখতে এসেছি। গ্রামীণ পরিবেশের মধ্যে বিলের এই অপার সৌন্দর্য বিমোহিত করেছে। সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে মুগ্ধ হয়েছি। আগত দর্শনার্থীদের জন্য টয়লেট ও পানির ব্যবস্থা থাকা দরকার। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্র আবিদ রহমান বলেন, গ্রামের পরিবেশ এতা সুন্দর এটা আমার জানা ছিলো না। আজকে এই সৌন্দর্য দেখার পর গ্রামের প্রেমে পড়ে গেলাম।  

পত্নীতলার ঘুকসির বিলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিচিত হয়ে ওঠা বিলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন ছুটছেন হাজারো মানুষ। আপনিও পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এই বিলে। উভভোগ করতে পারেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। নৌভ্রমণ আর জলকেলিতে মেতে উঠতে পারেন বিলের স্বচ্ছ পানিতে। নজিপুর বা বদলগাছী থেকে আপনি সহজেই এই বিলে আসতে পারেন। নজিপুর থেকে ১৪কিলোমিটার আর মাতাজিহাট থেকে মাত্র ৭কিলোমিটার দুরে এই বিলের অবস্থান। সরাসরি বাস যোগাযোগ না থাকলেও নজিপুর বা মাতাজিহাট থেকে আপনি চার্জার ভ্যান, ইজিবাইক, মোটর সাইকেল বা অন্যান্য ব্যক্তিগত বাহনে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন। তবে খাবার সাথে নিতে ভুলবেন না। কারণ এখানে ভারী খাবারের কোন ব্যবস্থা নেই।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে