পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামের আফাজ উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মোঃ মাহাবুল ইসলাম (৫৭) পেশায় একজন কলা ব্যবসায়ি। কলা ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য তাকে বিভিন্ন এলাকাতে যেতে হয়। কলার ডালা মাথায় নিয়ে বাই সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন এলাকাতে যাতায়াত করে থাকেন মাহাবুল। মাহাবুলের কলার ডালা মাথায় নিয়ে বাইসাইকেল চালানো দেখে অনেকে হতবাগ হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন।
মাহবুল জানান, দির্ঘ ২৮ বছর ধরে তিনি কলার ব্যবসা করেন। দুই যুগ পার হয়েছে ডালা থেকে হাত ছেড়ে কলার ডালা মাথায় নিয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে ঈশ্বরদী, রাজাপুর, মাঝগ্রাম, দাশুড়িয়া ও মুলাডুলির বিভিন্ন এলাকায় কলা ক্রয়-বিক্রয় করে আসছেন।
তিনি বলেন, প্রথম দিকে এক হাত দিয়ে কলার ডালা ধরে বাইসাইকেল চালাতেন। হঠাৎ একদিন কলার ডালা থেকে হাত ফসকে যায়, কিন্তু মাথায় থাকা কলার ডালা পরে যায়নি। ওই দিনের পর থেকে তিনি কলার ডালায় হাত না দিয়ে বাইসাইকেল চালানোর চেষ্টা করেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত দির্ঘ দুই যুগ পার হয়েছে মাহাবুল কলার ডালা মাথায় নিয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে আসছেন।
মাহাবুল আরও জানান, কলার ডালা মাথায় নিয়ে বাইসাইকেল চালানো দেখার জন্য ছুটির দিনে বিভিন্ন এলাকা থেকে তার গ্রামে উৎসুক মানুষেরা এসে ভিড় জমায়। তিনিও তাদের আনন্দ দিতে বিনে পয়সায় কলার ডালা মাথায় নিয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে দেখান। বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটি কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও জাতিয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান কূল ময়েজ বলেন, আমার আড়কান্দির কৃষি খামারের পাশ দিয়ে প্রায় দিন মাহাবুল কলার ডালা মাথায় নিয়ে হাত ছেড়ে বাইসাইকেল চালিয়ে দির্ঘ পথ যাতায়াত করে থাকেন। ছোট-বড় কলার ডালা মাথায় নিয়ে হাত ছেড়ে বাইসাইকেল চালানো ধিরে ধিরে তার অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। কেউ কেউ কলার ডালা মাথায় নিয়ে হাত ছেড়ে বাইসাইকেল চালানোকে সার্কাস মনে করে থাকেন। এটাকে কৌশলও বলা যেতে পারে।