বলিউড তারকা সাইফ আলী খান ও সোহা আলী খানকে সবাই চেনেন। তবে তাঁদের বড় বোন সাবা আলী খান বরাবরই আলোচনার বাইরে থাকতে পছন্দ করেন। এবার নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন পতৌদি পরিবারের এই জ্যেষ্ঠ কন্যা। জানিয়েছেন, ১৯ বছর বয়সে কলকাতার এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে প্রায় ঠিক হয়েই গিয়েছিল। কিন্তু তখন বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না তিনি।
অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়া ও তাঁর স্বামী অঙ্গদ বেদীর একটি ভ্লগে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে সাবা নিজের সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি জানান, জীবনে তাঁর কখনো প্রেমিক ছিল না। ১৮ বা ১৯ বছর বয়স থেকেই বিয়ের উদ্দেশ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কারও সঙ্গেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেননি।
সাবার কথায়, ১৯ বছর বয়সে কলকাতায় পরিচয় হওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে প্রায় হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি পিছিয়ে আসেন। কারণ তখন বিয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত মনে হয়নি তাঁর।
পরবর্তী সময়ে অবশ্য বিয়ের বিষয়ে তাঁর আপত্তি ছিল না। কিন্তু এমন একজন মানুষ খুঁজে পাননি, যার সঙ্গে জীবন কাটানোর মতো মানসিক মিল তৈরি হতে পারে।
এর পেছনে নিজের বাবা মনসুর আলী খান পতৌদির প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন সাবা। ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ও পতৌদি পরিবারের এই প্রয়াত কর্তা তাঁর কাছে ছিলেন অসাধারণ ব্যক্তিত্বের মানুষ। সাবার ভাষায়, বাবা ছিলেন অমায়িক, দায়িত্বশীল ও মানবিক। একই সঙ্গে তিনি মেয়েকে স্বাবলম্বী হতে শিখিয়েছিলেন।
সাবা বলেন, “বাবাকে দেখার পর জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়াটা বেশ কঠিন ছিল। তিনি অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী, অমায়িক, দায়িত্বশীল এবং একজন মানবিক মানুষ ছিলেন। তিনি আমাকেও স্বাবলম্বী হতে শিখিয়েছেন। পুরোপুরি বাবার মতো কাউকে খোঁজার বিষয় ছিল না, তবে বাবা তো বাবাই হন।”
নিজের প্রত্যাশা বোঝাতে গিয়ে অভিনেত্রী তাপসী পান্নুর একটি মন্তব্যও তুলে ধরেন সাবা। তাঁর ভাষায়, “তাপসী পান্নু একবার বলেছিলেন, ‘আমার কোনো ছেলের প্রয়োজন নেই, আমার একজন পরিপক্ব পুরুষ প্রয়োজন।’ তাঁর এই কথাটি আমার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমি ঠিক তেমন কোনো মানুষ খুঁজে পাইনি।”
সাবা আলী খান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর ও প্রয়াত মনসুর আলী খান পতৌদির জ্যেষ্ঠ সন্তান। সাইফ আলী খান ও সোহা আলী খানের মতো অভিনয় জগতে না গিয়ে তিনি গয়না নকশার পেশা বেছে নিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনও রেখেছেন অনেকটাই আড়ালে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্য মাঝে মাঝে পতৌদি পরিবারের পুরোনো ছবি, পারিবারিক মুহূর্ত ও স্মৃতি ভাগ করে নেন সাবা। এসব পোস্টে পরিবারের সদস্যদের প্রতি তাঁর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও উঠে আসে।
ভাই সাইফ আলী খান ও ভাবি কারিনা কাপুর খানের সম্পর্ক নিয়েও একসময় বিশেষ পোস্ট করেছিলেন তিনি। তাঁদের বিবাহবার্ষিকীতে দেওয়া সেই পোস্টে সাইফ ও কারিনার পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সম্পর্কের প্রশংসা করেন সাবা। তাঁদের মধ্যকার বিশেষ রসায়ন ও ভালোবাসাকে পরিবারের জন্য অনুপ্রেরণার বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
তারকা পরিবারে জন্ম হলেও সাবা নিজের জন্য বেছে নিয়েছেন আলাদা পথ। বিয়ে নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশার চেয়ে নিজের মানসিক প্রস্তুতি ও উপযুক্ত জীবনসঙ্গী পাওয়াকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। আর সেই কারণেই ৫০ বছর বয়সেও অবিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন পতৌদি পরিবারের এই সদস্য।